শেষ মুহূর্তে নেইমারের পেনাল্টি। ২-১! ব্রাজিল কি একটু আশা দেখছিল? আর আধ মিনিট হলে কি সমতা আসবে? নরওয়ের বুকেও কি একটু শঙ্কা ভর করে বসেছিল! হাজার হোক, ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের রক্তের গন্ধ পাইয়ে দিয়েছিল যে! তবে সব শঙ্কা উবে গেল একটু পরই। রেফারি তিন বার ফুঁ দিলেন বাঁশিতে। নরওয়ের জয় নিশ্চিত হলো সঙ্গে সঙ্গেই।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল-নরওয়ে। ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। ম্যাচের শুরুতেই ব্রাজিলের মনে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল ইউরোপের দলটি।
ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই ব্রাজিলের জালে বলও পাঠিয়ে দিয়েছিল নরওয়ে। সঙ্গে সঙ্গে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল পুরো স্টেডিয়াম। কিন্তু অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করেন রেফারি। তাতেই যেন প্রাণ ফিরে পায় ব্রাজিলিয়ান সমর্থকরা। আলিসনকে ফাঁকি দিয়ে অফসাইডে দেওয়া গোলটি ছিল প্যাটট্রিক বার্গের।
এদিকে ম্যাচের দশম মিনিটে লিড নিতে পারতো নরওয়ে। ডি-বক্সের ভেতরে ম্যাথিউস কুনহাকে ফাউল করেন নরওয়ের এক ডিফেন্ডার। ভিএআরের মাধ্যমে ফাউল ঘোষণা করে পেনাল্টি দেন রেফারি। পেনাল্টি কিক নিতে আসেন ব্রুনো গুইমারেস। তার নেওয়া শটটি বীরত্ব দেখিয়ে ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নাইল্যান্ড।
পেনাল্টি মিসের ধাক্কা সামলে প্রথমার্ধের শেষদিকে ম্যাথিউস কুনহা এবং মার্তিনেল্লি দূরপাল্লার শটে গোল করার চেষ্টা করলেও নরওয়ের ডিফেন্ডাররা তা প্রতিহত করেন। ফলে আক্রমণের পর আক্রমণ করেও গোলহীনভাবেই বিরতিতে যেতে হয় লাতিন আমেরিকার দলটিকে।
বিরতির পর গোলের খোঁজে মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল। তবে একের পর এক আক্রমণ করেও প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি তারা। ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে দুর্দান্ত এক হেড থেকে নরওয়েকে এগিয়ে দেন হালান্ড।
এরপর আরও একবার জ্বলে ওঠেন এই তারকা স্ট্রাইকার। ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শক্তিশালী শটে বল জালে জড়িয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি।
এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা সাতটিতে উন্নীত করেন হালান্ড। ফলে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় তিনি লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের সমান উচ্চতায় পৌঁছে যান।যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ দিকে আরেকটি পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। সেখান থেকে গোল করে ব্যবধান কমান নেইমার। তবে শেষ পর্যন্ত আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি সেলেসাওরা।
ফলে ২-১ গোলের ঐতিহাসিক জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে নরওয়ে, আর বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যায় ব্রাজিলের।












